সনাতন (হিন্দু)ধর্মীয় ই-বুক বিজ্ঞাপন
বৰ্ত্তমান সময়ে পৃথিবীতে, বিশেষতঃ ভারতবর্ষে, ধৰ্ম্মতত্ত্ব লইয়া সমাজ মধ্যে নানাবিধ বিতণ্ডা ও দ্বন্দ্ব উপস্থিত হইয়াছে। কতকগুলি ব্যক্তি নূতন উদ্ভাবিত “ব্রাহ্ম” ধর্ম্মের পদ্ধতি অবলম্বন কবিয়া ভারতবর্ষীয় চিরন্তন দেব দেবীর উপাসনা ও ক্রিয়াকাণ্ডের প্রতি বীতরাগ ও অশ্রদ্ধাবান্ হইয়াছেন ; তৎপ্রতিশোধ-স্বৰূপে পুরাতন ধর্ম্মানুরাগী ব্যক্তিগণ নবোদ্ভাবিত ব্রাহ্মধর্ম্মের ও তদঙ্গ স্বৰূপ রীতি, নীতি ও ক্রিয়াদিব প্রতি দ্বেষ ও বৈবিভাব প্রকাশ করিয়া চলিতেছেন। যে স্থানে একটী ধৰ্ম্মসভা সংস্থাপিত আছে; সেই স্থানেই তাহার প্রতিযোগিতা সাধন জন্য একটী ব্রাহ্মসভা স্থাপিত করা হইয়াছে ; অথবা যে স্থানে নূতনরূপে একটী ব্রাহ্মসভা স্থাপিত হইয়াছে, সেই স্থানেই যেন, তাহার প্রতিদ্বন্দ্বি-স্বরূপ একটী ধৰ্ম্মসভা সংস্থাপন করা আবশ্যক হইয়া উঠিয়াছে । ধৰ্ম্ম আর ব্রহ্ম যেন পরস্পর বৈবিভাবাপন্ন এবং উভয়েই যেন পরস্পর পরস্পরকে পরাজয় করিতে ও আত্মজয় লাভে কত- সংকল্প হইয়াছেন। একবিধ উদ্দেশ্যের অনুসরণকারী দুই সম্প্রদায়ের এই পবিস্ময়কর প্রতিকূলতারণ দৃষ্টি করিলে ধার্ম্মিকজনের অন্তঃকরণে অবশ্যই ক্ষোভের উদয় হয় । ফলিতার্থে ধৰ্ম্ম ও ব্রহ্মে অভেদ ভাব । পরম পথামু- সন্ধাযী ব্যক্তির নিকট উভয়ই আদরণীয়। যদিও ব্রাহ্মদলাক্রান্ত বিধৰ্ম্মিগণ ধর্ম্মকে অনাদব ও ধৰ্ম্মদ লাক্রতি অধাৰ্ম্মিকগণ ব্রহ্মকে অশ্রদ্ধা করিয়া থাকেন, কিন্তু নিরপেক্ষ ধাৰ্ম্মিকগণ কখনই সেরূপ আচরণ করেন না ; কারণ তাঁহারা তাঁহাদিগের হৃদগত ধ্যেয় বস্তুকে সর্ব্বধর্মের আধার স্বরূপ বলিয়া জানেন । যিনি যে ভাবে ভাবময় ঈশ্বরের ভাবনা করুন না কেন, ফলিতার্থে সকলেই সেই এক সৰ্ব্বেশ্বরের উপাসনা করিয়া থাকেন ।
জ্ঞানিন্ত্রণের মধ্যে যদিও ব্যবহার-প্রণালীর বৈচিত্র্য দৃষ্ট হয়, কিন্তু মনেবল
সনাতন (হিন্দু)ধর্মীয় ই-বুক ডাউনলোড করুন !
ভাবের বড় অন্তর দেখা বৈপরীত্য দৃষ্ট হয় না। অতএব জাতি ও পন্থাভেদে ধৰ্ম্ম ও ব্রহ্মে ভেদ জ্ঞান করা নিতান্ত হীন-বুদ্ধিব কাৰ্য্য। ঐ ভেদভাব পরিহার 'পূর্ব্বক সেই অভেদাত্মা পরমাত্মাকে ( অর্থাৎ যিনি ব্রহ্ম এবং যাঁহা হইতে সকল ধর্ম্মের মর্ম্ম প্রকাশ পাইতেছে ) আমাদের সর্ব্বার্থ সাধনের একমাত্র উপযোগী জ্ঞান করা কর্তব্য। যায় না। অর্থাৎ দেশ কাল পাত্র ভেদে জ্ঞানের ইদানীন্তন যুবকবৃন্দ প্রায়ই ব্রহ্মজ্ঞানাপন্ন হইয়া ধর্ম্ম কর্ম্মের ও ক্রিয়া- কাণ্ডের নাম শ্রবণ করিতে চাহেন না ; কিন্তু ধর্ম্ম ও ব্রহ্ম পরস্পর বিরোধী কে না এবং উভয়ের সাধনে কোন স্থানে বিরোধ ঘটে কি না, তাহা অনুধাবন করিয়া দেখেন না । কেবল এই মাত্র ভাবিয়া থাকেন, যে ব্রাহ্মধর্ম্ম অব- লম্বন ও যাজন করিতে হইলে হিন্দুধৰ্ম্মকে নিতান্তই পরিত্যাগ করিতে হয় ; হিন্দুগণও ব্রাহ্মধর্ম্মের বিপবীত আচরণ করিয়া চলেন । এই ভাব যে নিতান্ত ভ্রান্তিমূলক, তৎপক্ষে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। বস্তুতঃ নিরাকার ব্রহ্মের উপা- সনা, করিতে হইলে অগ্রে সাকার উপাসনা যাগ যজ্ঞ ও তপস্যাদির আবশ্যক এবং তজ্জন্যই নিরাকার পরমেশ্বরের রূপ কল্পনা করিয়া ভজন পূজন ও সাধনাদি করিবার বিধি প্রদর্শিত হইয়াছে। ঐ সকল কার্য্যের দ্বারা (বিশে- ষতঃ যখন তাহা ঈশ্বরাপিত-বুদ্ধিতে কত হয়) চিত্তের মলাপকর্ষণ ও শুদ্ধি জন্মিলে মনুষ্যগণ ক্রমশঃ নির্গুণ ক্রিয়াকাণ্ড অর্থাৎ ব্রহ্ম-যজনাদিতে প্রবৃত্ত' হইতে পাবেন ; কিন্তু উপাস্য মূৰ্ত্তিকে ব্রহ্মবিভূষিত ভিন্ন মনুষ্য দেহরূপে কখনই পরিগণিত করা উচিত নহে। ব্রাহ্মদলের এতৎ সম্বন্ধে একটী ভ্রমণ- ত্মক সংস্কার আছে ; তাঁহারা ঈশ্ববের সেই সকল কল্পিত মূৰ্ত্তিকে বিকারময় মনুষ্যাদি-মূৰ্ত্তির ন্যায় জ্ঞান করিয়া নানা মত দোষারোপ করেন ; এবং তদুপাসনা যে নিতান্ত অগ্রাহ্য তাহাই স্থির করিয়া রাখিয়াছেন। এ দিকে তাহারা যে নিরাকার ব্রহ্ম উপাসনায় প্রবৃত্ত হন, তাহাতে তাহাদের যথার্থ অধিকার ও সামর্থ্য জন্মিয়াছে কি না, একবারও তাহার অনুসন্ধান করেন না।
সনাতন (হিন্দু)ধর্মীয় ই-বুক ডাউনলোড করুন !

No comments